নাঈম কিবরিয়া
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামে একজন আইনজীবীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। তার পিতা গোলাম কিবরিয়া। তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন পরিচিত আইনজীবী ছিলেন।
নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, নাঈমকে একটি পরিকল্পিত হামলায় বেদম মারধর করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা তার গাড়িটিকেও ভাঙচুর করেছে।
আরও পড়ুন>>>বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড, ফরম পূরণ শুরু
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রাত ১০টার দিকে। নাঈম এক প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তার গাড়ি একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর মোটরসাইকেলের চালকসহ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন যুবক নাঈমকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে রাস্তার উপর বেদম মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে সেখানে ফেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে তার খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
রফিকুল জানান, নাঈম পাবনা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। তিনি ১০ দিন আগে পাবনা থেকে ঢাকায় আসেন ও পূর্বাচলের নিজ বাড়িতে থাকছিলেন। পাবনায় তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলার বিচার চলছে। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ার জন্য তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।
রফিকুল আরও বলেন, নাঈম এক বন্ধুর প্রাইভেট কারে বেরিয়েছিলেন। রাতে রফিকুলের ফোনে একটি কল আসে, যেখানে বসুন্ধরা এলাকার একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, নাঈমকে মারধর করে ফেলে রাখা হয়েছে। পরে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে নাঈমকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ হামলা নিয়ে এলাকাবাসী ও আইনজীবী মহল গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে, হামলাকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































