
সংগৃহীত ছবি
দেশের শিক্ষাঙ্গন ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দেশের তিনটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।
শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ, রাজনৈতিক বিভাজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও পেশাগত অধিকার আদায়ে রেলপথ অবরোধ- এ ত্রিমুখী সংকটে দেশের শিক্ষাঙ্গন উত্তাল। বিশেষ করে চবিতে ব্যাপক সংঘর্ষের পর শতাধিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ। এতে রোববার (৩১ আগস্ট) দিনভর তীব্র রূপ ধারণ করে। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের খুঁজে খুঁজে কোপাচ্ছে। এতে শতাধিক আহত হন। উপ-উপাচার্য সমাধানের চেষ্টা করলে তিনিও ধাওয়া খেয়ে আহত হন।
যে কারণে চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেটের কাছে একটি বেসরকারি মেসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে দারোয়ান মারধর করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রাতে আসায় দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীকে ঢুকতে দিতে রাজি হননি। পরে সহপাঠীরা এসে চাপ দিলে দারোয়ান ওই শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলেন। এ খবর দ্রুত ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ২ নম্বর গেটের দিকে ছুটে যান।
আরও পড়ুন>>>চবি-আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষের স্থানে গেলে স্থানীয়রাও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি শান্ত করতে উপ-উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে তিনি আহত হন।
রাবিতে রাকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়েও উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রোববার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা রাকসু নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তালা ঝুলিয়ে দেন।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি জানাচ্ছেন। রাকসুর ফি দেয়া সত্ত্বেও তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ বৈষম্যের নিরসন না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, রাবিতে ছাত্রশিবির এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল জানান, একটি মহল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাকসু নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ছাত্রদল অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। রোববার দুপুরে রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তুলতে এসে ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বুকে বোতল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের এনে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
বাকৃবিতে রেল যোগাযোগ বন্ধ
এদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ডিপ্লোমাধারীদের অযৌক্তিক দাবির প্রতিবাদে ও কৃষিবিদ ঐক্য পরিষদ ঘোষিত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ময়মনসিংহের জব্বারের মোড়ে ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেয় শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, এগ্রি ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ অবরোধ করেছেন। তারা ডিপ্লোমাধারীদের কৃষিবিদদের উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটু মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের প্রধান তিন দফা দাবি হলো-
১. ডিএই, বিএডিসিসহ সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১০ম গ্রেডের পদগুলো (উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা/ উপ-সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা/সমমান) কৃষিবিদদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
২. নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ব্যতীত ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
৩. কৃষি বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া কেউ "কৃষিবিদ" পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত তাদের দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
আপন দেশ/এমবি
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।