Apan Desh | আপন দেশ

রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার আরেকটি গোল উৎসব

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:০৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ০৯:০৭, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার আরেকটি গোল উৎসব

ছবি : সংগৃহীত

গোলের বন্যায় আবারও মাতল বার্সেলোনা। আক্রমণের ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ছিন্নভিন্ন করে ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন রাফিনিয়া। 

তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সে বার্সার স্কোরবোর্ডে যোগ হলো একের পর এক গোল।দাপুটে পথচলায় এবার তারা রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে উড়িয়ে দিল লা লিগায় নবাগত রেসিং সান্তানদেরকে।

কাম্প নউয়ে বুধবার রাতে ম্যাচটি ৭-২ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। দর্শনীয় দুটি গোল করেছেন জুয়াও কান্সেলো। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন গাব্রিয়েল জেসুস ও লামিন ইয়ামাল।

ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩০ শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। রেসিংয়ের পাঁচ শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।

মৌসুমে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই অন্তত পাঁচটি করে গোল করল কাতালান ক্লাবটি। এই সাত ম্যাচে তারা মোট গোল করল ৩৩টি, বিপরীতে তাদের জালে বল গেছে কেবল সাতবার!

লিগে ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করল বার্সেলোনা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করে বার্সেলোনা। দ্রুত গোলও পেয়ে যায় তারা। অষ্টম মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে দলকে এগিয়ে নেন কান্সেলো, বল ক্রসবারের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলে বার্সেলোনা। ১৯তম মিনিটে দানি ওলমোর ছোট করে বাড়ানো থ্রু বল ধরে, গোলরক্ষককে একা পান কারিম আডেইয়েমি, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।

আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি মিরাজের, পিছিয়েছে তাসকিন

তিন মিনিট পর আরেকটি গতিময় আক্রমণে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন হাফিনিয়া। নিজেই স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এবারের লা লিগায় ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জালের দেখা পেলেন রাফিনিয়া।

৩০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথমবার উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ শাণিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকতে পারে রেসিং, এবং দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমায় তারা। বার্সা রক্ষণের দুর্বলতায় ডি-বক্সে সহজেই ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন মিডফিল্ডার গেয়ি।

তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় অবশ্য ছয় মিনিটের মধ্যেই জোর ধাক্কা লাগে। আরেকটি দূরপাল্লার শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন কান্সেলো। পর্তুগিজ লেফট-ব্যাকের জোরাল শটে বল একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।

৪২তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা একরকম শেষ করে দেন রাফিনিয়া। ওলমোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।

বিরতির আগে ব্যবধান বাড়তে পারতো আরও। আডেইয়েমি ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে লামিন ইয়ামালের নিচু স্পট কিক বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের শেষদিকে বাইরে চলে যাওয়া বল ধরতে গিয়ে একটু পিছলে যান বার্সেলোনার মূল গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। ওই সময়ে হয়তো পায়ে সমস্যা অনুভব করেন তিনি। বিরতির পর তার বদলি নামেন ভয়চেখ স্ট্যান্সনি।

দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে আবার গোল করার খুব কাছাকাছি যান ইয়ামাল। কিন্তু এবার তার শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে বাধা পায়।

৬৫তম মিনিটে অমার্জনীয় এক ভুল করে বসেন স্ট্যান্সনি এবং দ্বিতীয় গোল হজম করে বার্সেলোনা। সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে অহেতুক সময় নষ্ট করেন পোলিশ গোলরক্ষক। প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের মুখেও বল ক্লিয়ার করেননি তিনি, উল্টো পিছলে পড়ে যান এবং অনায়াস টোকায় ব্যবধান কমান ইয়াসির জাবিরি।

দুই মিনিট মধ্যেই অবশ্য ফের তিন গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করে বার্সেলোনা। আডেইয়েমি আবার ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা, এবং সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রাফিনিয়া।

চলতি লিগে ৯টি এবং মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে তার মোট গোল হলো ১১টি।

৭২তম মিনিটে ডি-বক্সে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে জালে বল পাঠান ইয়ামাল। কিন্তু এবার অফসাইডে ছিলেন তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

রাফিনিয়া হ্যাটট্রিক করার পরপরই তাকে তুলে নেন কোচ, বদলি নামেন আরেক ব্রাজিলিয়ান জেসুস। আর মাঠে নামার ১০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত নৈপুণ্যে লা লিগায় গোলের খাতা খোলেন তিনি। ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় কিছুটা বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন সাবেক আর্সেনাল স্ট্রাইকার।

গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফাইনর্টের বিপক্ষে বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পান জেসুস।

অনেক সুযোগ হারানোর পর, অবশেষে ৮৯তম মিনিটে গোলের দেখা পান ইয়ামাল। ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলা আডেইয়েমি মাঝমাঠে দুজনকে কাটিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে যান এবং ডি-বক্সে ঢুকে ছোট করে কাটব্যাক করেন, আর জোরাল শটে দলের সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল।

লিগে টানা চার ও সব মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন ইয়ামাল। আসরে তার গোল হলো সাতটি। মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচ আটটি গোল করলেন তিনি।

লিগে তৃতীয় হারের স্বাদ পাওয়া রেসিং ৭ পয়েন্ট নিয়ে আছে দশম স্থানে।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়