ছবি : আপন দেশ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন লড়াই করে গেছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
বাড়ির ছাদে পর্যন্ত মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। বেগম জিয়ার প্রতি এ ভালোবাসার কারণটা আসলে কী? এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই ভালোবাসার কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি (খালেদা জিয়া) বিরল ব্যক্তিত্ব। যিনি তার নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। যিনি তার সমস্ত জীবনে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম-লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু কখনো এই দেশ ছেড়ে চলে যাননি।’
তিনি বলেন, ‘এ যে, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা, মাটির প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, এটাই সমস্ত মানুষকে আলোড়িত করেছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যখন তার ওই অবগত্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। সেই সময়ে তার চলে
যাওয়ায় জনগণ মর্মাহত হয়েছেন।’
এদিকে, মা (বেগম খালেদা জিয়া) যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকে শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় জানিয়ে তারেক রহমান লেখেন, গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু, এ কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।
খালেদা জিয়া ছিলেন সমগ্র জাতির মা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসঙ্গে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, এবং এ কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান, এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনাদের এ সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
শোকের এ মুহূর্তে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছেন বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে পুরো বাংলাদেশ তার পরিবার হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে, পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন : নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা
মা যেখানে শেষ করেছেন, সেখান থেকে শুরু করবেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ তার সে দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার আমি গভীরভাবে অনুভব করছি। একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সে পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সে মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা জুগিয়েছে।
এসময় তিনি তার মা খালেদা জিয়ার রুহের শান্তি কামনা করে স্ট্যাটাসে বলেন, আল্লাহ যেন আমার মা’র রূহকে শান্তি দান করেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার উদাহরণ আমাদের সবাইকে দিয়ে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য এবং দেশপ্রেম খুঁজে পাই।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































