ছবি : আপন দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রথম ১৮০ দিনেই সে অঙ্গীকারকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্রীড়া, পরিবেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হচ্ছে একাধিক কর্মসূচি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলোকে কেবল ভোটের সময়ের অঙ্গীকার হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হিসেবেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডে সামাজিক সুরক্ষা
প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কার্ডধারী পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপণ্য দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর কথাও রয়েছে। এ উদ্যোগ নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড
কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’। এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি-বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবায় মানবিক পরিবর্তন
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
শিক্ষায় দক্ষতা ও প্রযুক্তির গুরুত্ব
শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা নয়- শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান
দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা
ক্রীড়াকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, পেশা ও জীবিকার ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বড় পরিকল্পনা
পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাও ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা। পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সম্প্রীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতি
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সুশাসনকে দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার
ইশতেহারের নয়টি অগ্রাধিকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে নেওয়া এসব উদ্যোগকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না বিএনপি। দলটির বক্তব্য, এগুলো একটি মানবিক, উৎপাদনমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
তবে প্রতিশ্রুতির বাস্তব সুফল জনগণের কাছে কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছানো যায়, সেটিই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। নির্বাচনি ইশতেহারকে বাস্তব উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কর্মসূচিতে রূপ দিতে পারলে তা সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হবে।
আপন দেশ/এবি/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































