ছবি : সংগৃহীত
আজকের দিনে একটু থামুন, নীরবতার শক্তিকে অনুভব করুন! শব্দদূষণমুক্ত শান্ত পৃথিবীর বার্তা নিয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস।
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দি রাগ, ক্ষোভ কিংবা মতবিরোধের সময় চিৎকারের পরিবর্তে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
বাড়িতে, কর্মক্ষেত্রে, জনসমক্ষে কিংবা অনলাইনে সব জায়গাতেই শান্ত ও সংযতভাবে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা দেয় এই দিন।
এর মূল লক্ষ্য, মন দিয়ে অন্যের কথা শোনা, ধৈর্য ধরে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা এবং প্রতিটি কথোপকথনে সৌজন্য বজায় রাখা।
উঁচু স্বরে কথা বললে কেউ আতঙ্কিত হতে পারেন, কেউ আবার নিজেকে গুটিয়ে নেন। বিশেষ করে শিশুদের মনে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়, কথার বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বলার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন <> মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের আবেদন শুরু আজ
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবসের ইতিহাস : ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে এই দিবসের সূচনা হয়। ‘লেটস স্টপ শাউটিং কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ নামে একটি সংগঠন মানুষের কথা বলার ধরন নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেয়।
তাদের মতে, চিৎকার সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে, মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই শান্ত ও ভেবেচিন্তে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ব্রিটিশ কাউন্সেলর ইয়াসমিন শাহিন-জাফর এই ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মতে, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা এবং কথা বলার ভঙ্গি অন্যের নিরাপত্তাবোধ ও গুরুত্ব পাওয়ার অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। ধীরে ধীরে স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারের মধ্যেও এ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে এই উদ্যোগের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। বিশেষ করে নিউরোডাইভারজেন্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তাদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপের সময় চিৎকার পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই এমন সময়ে সহানুভূতিশীল আচরণ এবং শান্তভাবে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
প্রতি বছর ৬ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। স্কুল, অফিস ও বাড়িতে এই দিনটি উপলক্ষে মানুষ নিজেদের কথাবার্তার ধরন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন। বার্তাটি সহজ—শান্ত স্বর সম্পর্ককে সুন্দর করে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায়। কথা বলার ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তনও অনেক সময় বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
কীভাবে পালন করবেন?
এই দিনটি পালনের জন্য বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন কথাবার্তায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই শুরু করা যায়। প্রথমেই চেষ্টা করুন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু নিচু স্বরে কথা বলতে। এতে অন্যরাও শান্তভাবে উত্তর দিতে উৎসাহিত হতে পারেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিশেষ করে শিশুদের সামনে সংযত স্বর বজায় রাখা জরুরি।
কেউ কথা বলার সময় মাঝপথে বাধা না দিয়ে তার বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মন দিয়ে শোনার অভ্যাস কথোপকথনে ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে মাথা নেড়ে বা হাসিমুখে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তার কথা শুনছেন।
বাড়িতে এমন একটি জায়গা তৈরি করতে পারেন, যেখানে টিভি, ফোন বা অন্য কোনও যন্ত্রের উচ্চ শব্দ থাকবে না। সেখানে বই পড়া, বিশ্রাম নেয়া কিংবা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সংযত ভাষা ব্যবহার করুন। কোনও বিষয়ে মতবিরোধ হলে সবার সামনে তর্কে না জড়িয়ে আলাদা করে কথা বলার চেষ্টা করুন।
এক দিনের জন্য টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্যান্য যন্ত্রের শব্দও কমিয়ে রাখতে পারেন। অতিরিক্ত চিৎকার-চেঁচামেচি রয়েছে এমন অনুষ্ঠান এড়িয়ে শান্ত গান বা পডকাস্ট শুনতে পারেন। এতে বাড়ি কিংবা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশও অনেকটা শান্ত থাকবে।
আপন দেশ/এমটিআই





































