ছবি : সংগৃহীত
ডারউইনে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ দল। সে জয়ে লাল সবুজ দলের প্রতিনিধিরা যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছিল, ম্যাকাইয়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতেই টাইগারদের চেপে দলল স্বাগতিকরা। প্রতিশোধের আগুনে যেন বল হাতে জ্বলে উঠলেন মিচেল স্টার্ক। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শেষ ব্যাটসম্যান শরীফুল ১৯ বলে ১৪ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
শনিবার (২২ আগস্ট) টসের ফল বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠালেও অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে সে সুযোগ কাজে লাগানোর কোনো সুযোগই পায়নি সফরকারীরা। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অপরিচিত মাঠে শুরুটা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ৬.৪ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১২ রানে পাঁচ উইকেট।
সাদমান ইসলামকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে ধসের সূচনা করেন স্টার্ক। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে টানা দুই বলে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। তিন ব্যাটারের কেউই রান করতে পারেননি। এরপর মুমিনুল হক ৯ রানে থামেন স্টার্কের বলে, আর লিটন দাসের ইনিংস স্থায়ী হয় মাত্র পাঁচ বল-তিনিও ফেরেন শূন্য রানে!
মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন স্টার্ক। চার ওভারে তিন মেডেনসহ তার খরচ মাত্র চার রান। জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফার নেয়ার পর এবারও শুরুতেই তার ভয়ংকর রূপ দেখল বাংলাদেশ।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে ভেসে উঠছিল আরও বড় লজ্জা। টেস্টে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ২৬ রান। সে রেকর্ড ভেঙে নতুন বিব্রতকর অধ্যায়ের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ৪২ বলে ৫ রান করে আউট হলে ২১ রানে ছয় উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশের অবস্থা।
তখন মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ হয়তো ৪৩ রানের নিজেদের আরেকটি সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংসের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। সে পরিস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। লাঞ্চের সময় বাংলাদেশ ৩৫ রানে ছয় উইকেটে ছিল। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
আরও পড়ুন<<>>ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়
কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে ফিরে সে প্রতিরোধও ভেঙে দেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। মিরাজকে ১১ রানে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন তিনি। পরের ওভারেই জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের ক্যাচ হয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ, তার সংগ্রহ ১০।
তাসকিন আহমেদও কামিন্সের তৃতীয় শিকার হন। ৩৯ রানে নবম উইকেট হারানোর পর আবারও বাংলাদেশের সামনে হাজির হয় ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা। তবে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম শেষদিকে সে বিপদ সামাল দেন। তাইজুলের একটি চার এবং শরিফুলের কার্যকর ১৪ রানের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
তাইজুল ২৬ বলে ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। শরিফুল ১৯ বলে করেন ১৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ১১ এবং হাসান মাহমুদ ১০ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন স্টার্ক। ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। কামিন্স পান তিন উইকেট, হ্যাজেলউড একটি।
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া যে জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, ম্যাকাইয়ের প্রথম ইনিংসেই তার নির্মম প্রকাশ ঘটল। আর বাংলাদেশের জন্য ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে শুরু হলো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প-যেখানে ব্যাট হাতে প্রতিরোধের চেয়ে বেঁচে ফেরাটাই হয়ে উঠেছিল বড় চ্যালেঞ্জ!
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































