Apan Desh | আপন দেশ

সাংবাদিক আলিফকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের

নেত্রকোনা প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৭, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৬:১৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক আলিফকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের

ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এছাড়াও বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। ক্ষতের ধরন বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।

নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ডিটেকটিভ আর্টিকেল নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তার শ্বশুরবাড়ি তেলনজিয়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করে নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যান। পরে মুঠোফোন নিতে আবার ফিরে আসেন। 

আরও পড়ুন<<>>সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই

মুঠোফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দুই যুবক আলিফকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে আলিফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা আলিফকে কুপিয়ে জখম করেছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। ওই ঘটনায় আলিফ বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে পুলিশ নাম উল্লেখ করা দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা স্বামী হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দুই শিশুসন্তান রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে কীভাবে জীবন চালাবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আলিফের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকির বলেন, সাংবাদিকতা করার কারণে তার ভাইয়ের অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল। ভাইকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়