ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের এডেন শহরে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অস্থায়ী কার্যালয় ও প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হতাহতদের এ তথ্য জানিয়েছেন বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) এ হামলার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদকে টার্গেট করেছে হুতিরা। আর এর মাধ্যমে দেশটিতে পূর্নাঙ্গ গৃহযুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
গত দুই মাস ধরেই ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের লড়াই চলছে। এরমধ্যে দেশটির সরকারের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হামলার ঘটনা ঘটল। দেশটির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রীদের হত্যার উদ্দেশ্যে হুতিরা এ হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বিবিসিকে জানান, আল-মাশিক প্রাসাদে পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা অক্ষত রয়েছেন, তবে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
রাজধানী সানাসহ হুতি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসমূহ এবং সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে হামলায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এ লড়াই আরও বাড়তে যাচ্ছে। যা পরে পূর্নাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেবে বলে শঙ্কা সাধারণ ইয়েমেনিদের। এরসঙ্গে সৌদি আরব ছাড়াও অন্যান্য আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো যুক্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন<<>>দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, যৌনাঙ্গে বুটের আঘাত
হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিতে অন্যান্য ইসলামিক দেশগুলোর কাছে লবিং করছে সৌদি। দেশটি বলছে, হুতিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের জন্য হুমকি।
আজকের হামলার মাধ্যমে হুতিরা দেখিয়েছে তারা ইয়েমেনের সরকারের মূল কেন্দ্রকে টার্গেট করতে চায়। সানা ইয়েমেনের রাজধানী হলেও এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
এ হামলার জবাবে হুতিদের বিরুদ্ধে পালটা ব্যবস্থা নেবে ইয়েমেনি বাহিনী। তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, সমস্যা হলো হুতিদের কোনো সদরদফতর নেই যেখানে পালটা হামলা হবে। এছাড়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নেতারা বিমান হামলা থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকার কৌশল অবলম্বন করছেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মন্ত্রিসভা বলেছে, এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ লক্ষ্য করে চালানো হামলা হুতিদের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সৃষ্টির কর্মকাণ্ডেরই অংশ। এর মধ্যে তাইজ ও লাহিজ এবং সৌদি আরবের বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি এডেনে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়েছেন। এ হামলা তাদের অপরাধমূলক আচরণের ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছেন।
জিনদানি বলেন, সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের সেনাদের মনোবল এ হামলার ঘটনায় একটুও কমবে না।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































