Apan Desh | আপন দেশ

পরকীয়া-মুতাহ বিয়ে নিয়ে সংসদে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ১৯ জুন ২০২৬

পরকীয়া-মুতাহ বিয়ে নিয়ে সংসদে বিতর্ক

ছবি : আপন দেশ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হককে একটি ঘটনা জাতীয় সংসদে আলোচনায় এনেছেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। তিনি মাওলানা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মুতাহ বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে।

তবে সরকারি ও বিরোধী দলের অনুরোধে বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়টি সামনে আনেন।

আবু আশফাক বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক মানে একটা দেশ না, ইসলামী ব্যাংক একটি ব্যাংক। সেটার জন্য (সংসদে আলোচনা) এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। সিগারেট-মদের জন্য ওই পাশ (বিরোধী দল) থেকে বলা হয়েছে, এগুলো ট্রেজারি বেঞ্চ খায় বলে এগুলো রাখা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ্‌ জানেন কার কী অভ্যাস আছে। আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনারা বিগত দিনে শুনেছেন মুতাহ বিয়া। মুতাহ বিয়া কী জিনিস আমি আপনার কাছে জানতে চাই। মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতাহ বিয়ের নামে, সেটা আসলে কি ছিল আমি জানি না। ছাত্রশিবির নেতা জিসান... এ ইতিহাসও আপনারা জানেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক অবনতি হয়েছিল। অর্থনীতি তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস পার হয়েছে। এ চার মাসের মধ্যে সরকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করেছেন। বিরোধী দল থেকে এখনও বলা হয় যে, তাদের কথার বাইরে গেলে আন্দোলন করা হবে। কিন্তু বিএনপির জন্ম হয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে, বিএনপিকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত নিয়ম হলো যে, যার এখানে এসে জবাব দেয়ার সুযোগ নেই। তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়। মুতাহ বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? মুতাহ বিয়ে হলো সম্ভবত কেউ বিদেশে যায়, বিদেশে অবস্থানকালে কেউ হয়তো টেম্পরারি বিদেশে গেল, আগেরকার দিনে নিয়ম ছিল তিনি এক মাসের জন্য বিদেশে গেলে আগের নিয়ম ছিল তিনি একটা সোকল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা পার্টনার খুঁজে নিতে পারতেন। এটাই আমার ধারণা। তবে এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করা ভালো। অপ্রাসঙ্গিক, দয়া করে এখানে কিছু তুলবেন না।’

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে যান। এ সময় স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় উপনেতা আপনি কী বলতে চান? আপনি কি মুতাহ বিয়ে নিয়ে এক্সপার্ট নাকি? বলেন।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘মুতাহ বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মাননীয় স্পিকার, আপনি রাইটলি বলেছেন তিনি এখানে উপস্থিত নাই। তার ব্যাপারে এখানে আলোচনা তো সমীচীন না। মামুনুল হক সাহেবের ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি কোনো মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হ্যারেস করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশ। বিয়ে করা জায়েজ। আমি চাইব যে, আপনি এক্সপাঞ্জ করেন। রেকর্ডে ভুল তথ্য থাকা উচিত হবে না।’

এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, তা কার্যবিবরণী হতে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।’ 

তখন স্পিকার বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখানে এটা নিয়ে আমার বলার ইচ্ছা ছিল না। এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক- তা চাই না। মাওলানা মামুনুল হকের এই বিষয়টি কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নাই। এটা আমার বলার ইচ্ছা ছিল না, তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেননি। যাক এটা নিয়ে আর আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।’

আরও পড়ুন : দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এ প্রসঙ্গটাকে থামানোর জন্য ইশারায় মাননীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। একসময় মুতাহ্‌ বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন করা যাবে না।’

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়