ছবি : আপন দেশ
বাংলাদেশে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সংহতি রক্ষা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহবান জানান বক্তারা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘Dialogue on Information Integrity and Social Cohesion in Bangladesh: Policy, Platform Accountability and Collective Action’ এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ ও বিভিন্ন অংশীজনের উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যমকর্মী, তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্টচেকার) এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিভ্রান্তিকর তথ্যের আশঙ্কাজনক বিস্তার সংলাপে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর কারসাজি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার জনআস্থা ও সামাজিক সংহতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউএনডিপির চলতি বছরের একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনলাইনে প্রচারিত অর্ধেকেরও বেশি কনটেন্ট ছিল মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর, যার মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই ছিল এআই-নির্ভর বা কারসাজি করা মিডিয়া। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের চরিত্রহননে এআই-নির্মিত ভিডিও ও বিকৃত মন্তব্য ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি প্রতিশ্রুতি ও চ্যালেঞ্জ
উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনম বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর বাংলাদেশে উদ্ভাবন ও নাগরিক সেবার অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করলেও তথ্যের সত্যতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, তথ্যগত সততা বজায় রাখা কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব।
এসময় অপপ্রচার ও ‘bad contents’ বা ক্ষতিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় গণমাধ্যম ও আইসিটি বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা ও দায়িত্বশীলতা
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার বক্তব্যে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাগস্বাধীনতা দিলেও এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠনের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, ভুল তথ্যের যুগে ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং তার সংবাদপত্রেও এ লক্ষ্যে আলাদা ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
তার মতে, এআই (AI) যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বোঝায়, তেমনি এটি বুদ্ধিমত্তার অনুপস্থিতিও (Absence of Intelligence) বোঝাতে পারে।
প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস তথ্যের সংকটকে একটি ‘মানবিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, গত নির্বাচনকালীন সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ৪৪ শতাংশই ছিল বিভ্রান্তিকর এবং ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নারী ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে।
তিনি বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা ‘সেক্সুয়ালাইজড ডিপফেক’ এবং সমন্বিত অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করেন যা নারীদের জনজীবনে অংশগ্রহণে বাধা দিচ্ছে।
রড্রিকস বলেন, ফেসবুক বা মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর বাংলা ভাষায় তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশীয় প্রেক্ষাপট বোঝার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সংলাপে তিনটি পৃথক অধিবেশনে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে নীতি কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
সমাপনী পর্বে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ পথনকশা তুলে ধরবেন বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন : রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী
এ সংলাপের ভিত্তিতে একটি নীতিপত্র (Policy Paper) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত সুপারিশ হিসেবে কাজ করবে।
আপন দেশ/মিম/এনএম
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































