ছবি: আপন দেশ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্বর্ণের দাম কমেছে। স্থানীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। দেশেও স্বর্ণের বাজারে দরপতন ঘটেছে। টানা তৃতীয় দফা কমানো হয়েছে মূল্যবান এ ধাতুর দাম। ফলে শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভরিতে দুই হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওইদিন সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৩৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ১১২ টাকা।
নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণেল গহনার দাম ১৯ হাজার ২২০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১৮ হাজার ৩৫৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫ হাজার ৭৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের গহনার দাম প্রতি গ্রাম ১২ হাজার ৮৮০ টাকা।
আরও পড়ুন<<>>বিশ্বঋণ ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার, বাংলাদেশ ৪৫তম
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৮৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ১৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার গহনার দাম ২ হাজার ৩৮০ টাকা।
প্রতি গ্রাম হিসাবে ২২ ক্যারেটের রুপার গহনার দাম ৩৩০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৩১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার গহনার দাম ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি দিতে হবে। অর্থাৎ, গহনা কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের সঙ্গে প্রযোজ্য মজুরি যোগ হবে।
এ ছাড়া পুরোনো গহনা বদলে নতুন গহনা নেয়ার ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ বাদ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। আর পুরোনো গহনা বিক্রি বা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেয়ার নিয়ম প্রযোজ্য। এসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেয়া যাবে না।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































