Apan Desh | আপন দেশ

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ব্যবস্থাগ্রহণে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৬, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫৫, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ব্যবস্থাগ্রহণে তোলপাড়

ছবি: পিএম দফতর

রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবা খাত ও সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় জেঁকে বসা চরম অনিয়ম, দীর্ঘস্থায়ী অব্যবস্থাপনা। অমার্জনীয় দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে এবার অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৩টি স্পটে আকস্মিক এ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টারে আকস্মিক ঝটিকা পরিদর্শন চালিয়ে নজিরবিহীন ও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তিনি। এ সময় দায়িত্বে অবহেলা ও গুরুতর অসঙ্গতি হাতে-নাতে ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিক বরখাস্তসহ কড়া আল্টিমেটাম প্রদান করেন সরকারপ্রধান।

দিনের শুরুতে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল এবং আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে নজিরবিহীন ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিশু হাসপাতালের সংবেদনশীল শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামকে নিজের কক্ষে বসে প্রকাশ্যে ধূমপানরত ও সম্পূর্ণ অগোছালো অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দেখতে পান তিনি। চিকিৎসালয়ের মতো পবিত্র ও জনবহুল স্থানে একজন চিকিৎসকের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। 

এছাড়া কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালের আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে সার্বিক পরিচ্ছন্নতার শোচনীয় চিত্র দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুরো হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে মাত্র সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।

পরবর্তীতে আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শনে গিয়ে আবাসিক এলাকার যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও চলাচলের পথের বেহাল দশা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলার শিকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নানা অভিযোগ গভীর মনযোগ দিয়ে শোনেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কোয়ার্টারের সার্বিক পরিচ্ছন্নতার দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের এ ধারাবাহিকতায় নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সবুজ নগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানান। 

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, কেবল সরকারি প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে এ বিশাল নগরের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; বরং প্রত্যেক নাগরিককে নিজ দায়িত্বে চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ব্রতী হতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের মতোই দেশ পুনর্গঠন ও একটি দূষণমুক্ত বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতেও এ তরুণশক্তিকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। 

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়