ছবি : আপন দেশ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকে নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হতেই পারে। তবে সেদিকে যাচ্ছি না। আলোচনা করার মতো মাথা আমার যে নেই, সেটা জানি। সমালোচনা তো দূরের কথা।
তবে এসব পাশ কাটিয়ে একটা কাজ করা যেতে পারে। যেমন ধরুন, বিশাল এক সমুদ্র থেকে এক গ্লাস পানি নেবো। তাই নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি, তারপর দুচারটে কথা একটু এদিক সেদিক করা।
আমার নাম হয়তো উপরে দেখতে পাচ্ছেন। ছোটোবেলায় ভালো ছড়া কবিতা পড়তে চাইতাম না। মানে, পড়তাম না। কারণ, আমার সংগ্রহ ছিল খুবই অল্প। এই ধরা যায়, স্কুলের বইয়ের সঙ্গে দুএকটা ছড়ার বই। তাও সেগুলো খ্যাতিমান কবির লেখা। মজার ব্যাপার হলো, যেই লেখা পড়তাম সেটিই আমার মনে খুবই ধরবো। আর হিংসে হতো। ইশ, আমি যদি এটা লিখতে পারতাম!
দিব্যি মনে আছে, এমনও তো কতবার হয়েছে- অর্ধেক কবিতা পড়ে রেখে দিয়েছে। ভেবেছি এরপরের টুকু আমি লিখবো। চেষ্টা যে করিনি, তা না। করেছি, কিন্তু তাই কী হয়, বলুন?
আমার মা বেঁচে আছেন। মাকে নিয়ে কিছু লিখতে চাই না। লজ্জা লাগে। ভয় হয়। কী যেন একটা কাজ করে। তাঁর সঙ্গে আমার কিছু একটা আছে! আর সেই কিছুর পরেও বোধহয় কিছু একটা থেকে যায়। সেটি কেউ জানে না, আচ্ছা মা কি জানে?
আরও পড়ুন <<>> শরিফুল সোহান: ভাত খেতে খেতে
না জানুক, সবাই যা জানে, মা হয়তো সেটিই জানে। হয়তো বা জানে না। এই যে জানা অজানার ভিড়ে মানুষের কত কিছু যে অজানা থেকে যায়, সেটিই বা আবার কে জানে।
তবে, মাকে আমার পড়ে না মনে। না না, এটি আমার কথা না। বলেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। মনে পড়া কবিতায়। আমি তো মাঝেমধ্যে এখনো মায়ের সঙ্গে ঘুমাই। তারপরও এ কবিতা কেন জানি আমাকে এলোমেলো করে দেয়। এর ভেতরে কী যেন একটা আছে। কবি যখন বলেন,
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু কখন খেলতে গিয়ে
হঠাৎ অকারণে
একটা কি সুর গুনগুনিয়ে
কানে আমার বাজে,
মায়ের কথা মিলায় যেন
আমার খেলার মাঝে।
আমি এই লাইনগুলো পড়ার পর মাকে শুনতে পাই। জানি না, বেশি বলছি কি না। তবে, এই যে কানের মধ্যে বাজতে থাকা মায়ের কণ্ঠস্বর, এর মানে কি। আমি তো চাইলেই পারি, মাকে দেখতে- শুনতে। তাহলে কবি এই লাইনগুলো কারজন্য লিখলেন?
মা বুঝি গান গাইত আমার
দোলনা ঠেলে ঠেলে -
মা গিয়েছে, যেতে যেতে
গানটি গেছে ফেলে।
আমার মা গান গায় না। তবে আমি শুনেছি, তিনি অনেক সময় গুনগুন করেন। যখন অনেক রাত হয়ে যায়, ঘুম আসে না। আমি শুনতে পাই, মা কী যেন বলছে। মনোযোগ দিলে হয়তো গানের কথাগুলো বুঝতে পারবো। তবে এতটুকু বুঝি, একটা মিষ্টিসুর ভেসে আসছে। যার মধ্যে হয়তো তিনি থাকবেন, অনেক বছর। যেভাবে মায়েরা গান ফেলে চলে যায়, এই গানগুলি।
মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন আশ্বিনেতে
ভোরে শিউলিবনে
শিশির-ভেজা হাওয়া বেয়ে
ফুলের গন্ধ আসে
তখন কেন মায়ের কথা
আমার মনে ভাসে।
মাকে কি ভোলা যায়? কী জানি, এটাও সঠিক জানি না। হয়তো ভোলা যায়। তা না হলে চারপাশে এতো অভিযোগ কেন?
কবে বুঝি আনত মা সেই
ফুলের সাজি বয়ে -
পুজোর গন্ধ আসে যে তাই
মায়ের গন্ধ হয়ে।
সত্যি বলতে পুজোর গন্ধ কেমন হয় সেটি আমার জানা নেই। আমি মায়ের গন্ধ পেয়েছি, পাচ্ছি। তবে, প্রতিটা উৎসবে, প্রতিটা বিশেষ মুহূর্তে মা আর এই মায়ের উপস্থিতি ছাড়া কী হয়? তবে, মাকে আমার পড়ে না মনে।
শুধু যখন বসি গিয়ে
শোবার ঘরের কোণে,
জানলা দিয়ে তাকাই দূরে
নীল আকাশের দিকে-
মনে হয় মা আমার পানে
চাইছে অনিমিখে।
কোলের 'পরে ধ'রে কবে
দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
সারা আকাশ ছেয়ে।
সবশেষে মায়েরা রেখে যায়, তাদের পুরোটাই রেখে যায়। আমাদের নিজের মধ্যে, আশেপাশের প্রতিটা স্মৃতিতে। তারা হয়তো দেখেন আমাদের- সব সময়, সব ভাবেই। কিন্তু আমরা সন্তানেরা? আমরা কি তাদের দেখতে পাই, যখন দেখা যায়?
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































