Apan Desh | আপন দেশ

ভবিষ্যতের শহরে মানুষ-প্রকৃতির সহাবস্থান চান স্থপতি ওয়ং মান সাম

বিশেষ প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০০:৫৩, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভবিষ্যতের শহরে মানুষ-প্রকৃতির সহাবস্থান চান স্থপতি ওয়ং মান সাম

ছবি: আপন দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শহরগুলোকে আরও বাসযোগ্য, সহনশীল ও টেকসই করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের স্থপতি ওয়ং মান সাম। এ জন্য মানুষ, প্রকৃতি ও নগরব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক পাবলিক লেকচারে ভবিষ্যতের বাসযোগ্য শহর নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সিলভার জুবিলি পাবলিক লেকচার সিরিজের অংশ হিসেবে ‘ফর্ম ইন্টেলিজেন্স: টুয়ার্ডস আ নিউ অ্যান্ড রিজেনারেটিভ ট্রপিক্যাল আরবানিজম’ শীর্ষক এ লেকচারের আয়োজন করা হয়।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ওহা’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ওয়ং মান সাম তার বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ভেনিস বিয়েনালেতে উপস্থাপিত ‘গার্ডেন সিটি মেগা সিটি’ বইয়ের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শহরকে নতুনভাবে কল্পনার ধারণা তুলে ধরেন তিনি।

ওয়ং মান সাম বলেন, ‘ফর্ম ইন্টেলিজেন্স’ বলতে এমন স্থাপত্য নকশাকে বোঝায়, যা তার আশপাশের পরিবেশ ও বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। এতে ভবন শুধু একটি কাঠামো হয়ে থাকে না, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থার সক্রিয় অংশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, ওহা’র বিভিন্ন প্রকল্পে স্তরভিত্তিক নকশা, সবুজায়ন, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত স্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ, প্রকৃতি ও স্থাপনার মধ্যে একটি কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব।

লেকচারে সিঙ্গাপুরের পার্করয়্যাল কালেকশন পিকারিং হোটেলের উদাহরণ তুলে ধরেন ওয়ং মান সাম। ‘হোটেল ইন আ গার্ডেন’ ধারণায় নির্মিত এ স্থাপনাটি ধাপে ধাপে বিন্যস্ত স্কাই গার্ডেন ও বায়োফিলিক নকশার জন্য পরিচিত। ভবনটিতে সবুজায়নের পরিমাণ প্রকল্পটির মোট জমির আয়তনের ২০০ শতাংশেরও বেশি।

সিঙ্গাপুরের ওএশিয়া হোটেল ডাউনটাউন প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতিনির্ভর ও উন্মুক্ত নকশায় নির্মিত ২৭ তলা এ ‘লিভিং টাওয়ার’-এর সবুজে আচ্ছাদিত বাইরের অংশ ভবন শীতল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার ৪৩ শতাংশ। বাইরের দেয়ালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন<<>> দেশের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

প্যান প্যাসিফিক অর্চার্ড প্রকল্পের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। এতে ছয়তলা উচ্চতার চারটি খোলা স্তর একটির ওপর আরেকটি সাজানো হয়েছে। একই আয়তনের প্রাকৃতিক বনভূমির সঙ্গে তুলনা করলে, ভবনটির সবুজায়ন বাতাস পরিষ্কার করা, দূষণ কমানো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ৩০ শতাংশের বেশি ভূমিকা রাখে বলে জানান তিনি।

ওয়ং মান সাম আরও বলেন, এ ধরনের চিন্তা থেকেই উত্তর জাকার্তায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের জন্য একটি নতুন শহরের মহাপরিকল্পনা করেছে ওহা। সেখানে ছাদজুড়ে ক্যানোপি, বসবাস ও কাজের জন্য আলাদা স্তর, রেইনফরেস্টের মতো সবুজায়ন এবং ভূগর্ভস্থ পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২১০০ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরকে বাসযোগ্য, টেকসই ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম শহর হিসেবে গড়ে তোলাই ওহা’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। সেখানে মানুষ ও প্রকৃতি পাশাপাশি বসবাস করবে। সম্পদের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃতি ও নগরব্যবস্থা একে অপরকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের নকশা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওয়ং মান সাম। তিনি জানান, ক্যাম্পাসটির নকশা নিয়ে করা একটি সামাজিক জরিপে অংশ নেওয়া ৮৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এ ক্যাম্পাসের কারণে তারা ব্র্যাক কমিউনিটির অংশ হতে গর্ববোধ করেন।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, পুরো দেশ আমাদের এ ক্যাম্পাস নিয়ে গর্ব করে। এটি শুধু একটি ক্যাম্পাস নয়, এটা যেন প্রকৃতিরই একটি অংশ। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে এটি প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড এবং স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন অধ্যাপক ফুয়াদ হাসান মল্লিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অফিস অব কমিউনিকেশন্সের পরিচালক খায়রুল বাশার।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়